মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সাধারণ তথ্য

মাছ চাষ করে এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার জাকির খান। নিজের মেধা আর শ্রম দিয়ে মাছ চাষ করে জয় করেছেন দরিদ্রকে। তিনি এখন এলাকায় মাছ জাকির হিসেবে পরিচিত। তার পরামর্শে এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন সফল মৎস চাষী।
মেহেরপুর জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সবুজের ছায়াঘন একটি গ্রাম সুবিদপুর খাঁপাড়া। সুবিদপুর খাঁ পাড়া গ্রামের জাকির খান দারিদ্রকে জয় করতে ১৯৮৩ সালে জেলা মৎস অফিসের পরামর্শে মাত্র একটি পুকুর নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। বছর ঘুরতে না ঘুরতে প্রথমেই সে লাভের মুখ দেখলে তার আগ্রহ বেড়ে যায়। এরপর তিনি একে একে ৩২টি পুকুর নিয়ে ১৫ একর জমির ওপর তার মেধা ও শ্রম প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠা করেন সোনালী মৎস খামার। যে খামার থেকে এখন তিন বছরে ৩০ লাখ টাকার মাছ উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন তিনি। তার এই মৎস চাষের অনন্য সফলতার জন্য অনেকবার পেয়েছেন জেলার শ্রেষ্ট মৎস চাষীর পুরস্কার। তিনি বর্তমানে জেলার মৎস চাষীদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে গেছেন।
সোনালী মৎস খামারের মালিক জাকির খান বলেন, ১৫ একর জমির উপর ৩২টি পুকুর নিয়ে তিনি এ খামার গড়ে তুলেছেন নিজের শ্রম মেধা  ও ধৈর্যকে কাজে লাগিয়ে। তার খামারে এখন ২০-২৫ জন বেকার যুবককে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া নিজ গ্রাম সুবিদপুর ছাড়াও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন প্রত্যান্ত অনেক বেকার যুবক তার পরামর্শ ও তার খামার থেকে মাছের পোনা নিয়ে এলাকায় মাছ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। তিনি আরো বলেন, তার খামারে রুই ম্রিগেল, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের প্রজননসহ মাছচাষ করা হয়।
এলাকার মৎস চাষী, সাঈদ হোসেন বলেন, এর আগে আমরা ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক কষ্ট করে মাছের পোনা সংগ্রহ করেছি। এতে আমাদের অর্থ ও সময় যেমন অপচয় হতো সঙ্গে সঙ্গে অনেক পোনা মারাও যেত। কিন্তু আমাদের মৎস্য চাষী জাকির ভাই আমাদের সেই কষ্ট অনেকটা লাঘব করে দিয়েছেন। এবং তিনি ভালো মাছের পোনা উৎপাদন করেন। আমরা আগে জানতাম ভাইবোনের ক্রস হলে মাছ ভাল হয় না। কিন্তু আমরা এখানে স্বচক্ষে দেখছি এক পুকুরে তিনি ভাই মাছ এবং আরেক পুকুরে বোন মাছ রাখেন আর সেই মাছের ক্রস হলে অনেক বড় মাছ হয়। তাছাড়া আমরা মাছ চাষের বিভিন্ন কলা-কৌশল তার কাছ থেকে শিখেছি। সোনালী মৎস খামার থেকে নেয়া মাছের পোনার মৃত্যুর হার কম।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী কার্তিক হালদার বলেন, তার খামার থেকে আমরা মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে লাভবান হচ্ছি। তার পুকুরে ৮-১০ কেজি ওজনের মাছ আমরা দেখেছি এবং আমরা তা ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করছি।
মেহেরপুর জেলা মৎস জরিপ কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, জাকির খানের মতো যদি মৎস চাষে সবাই এগিয়ে আসে তবে দেশের মৎস ঘাটতি অনায়াসে পূরণ করা সম্ভব হবে।


Share with :

Facebook Twitter